অনেক সময় মনে হয়, কোনোভাবে কেবল দিনটা পার করে দিচ্ছি। চাপ, দুশ্চিন্তা, ক্লান্তি কিংবা হতাশার মধ্যেও কাজ করে যাচ্ছি। তখন নিজেকে হয়তো খুব একটা শক্তিশালী মনে হয় না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই টিকে থাকাটাই হতে পারে আপনার মানসিক দৃঢ়তা বা রেজিলিয়েন্সের লক্ষণ।

রেজিলিয়েন্স মানে সব পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার চেষ্টা করা কিংবা কোনো কিছুতেই ভেঙে না পড়া নয়। নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মনোবিজ্ঞান ও কাউন্সেলিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রবার্ট আলেকজান্ডারের মতে, এটি মূলত মানসিকভাবে নমনীয় থাকা। আর অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেও সামনে এগিয়ে যেতে পারা।

চাপ আসবেই। গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেই চাপ থেকে আপনি কতটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন। দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে মানসিক দৃঢ়তা চাপ সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে।

আপনার মধ্যেও হয়তো এমন কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলোকে আপনি রেজিলিয়েন্স হিসেবে কখনো ভাবেননি।

দুশ্চিন্তা, হতাশা বা অতিরিক্ত চাপের মধ্যেও প্রয়োজনীয় কাজ করে যাওয়া মানসিক দৃঢ়তার লক্ষণ। চাপ অনুভব করেও সিদ্ধান্ত নিতে ও দায়িত্ব পালন করতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

চাপ অনুভব করার পর ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে আবার কাজে ফিরতে পারা রেজিলিয়েন্সের ইঙ্গিত।

সবকিছু একা সামলানোই শক্তির পরিচয় নয়। কখন সাহায্য প্রয়োজন, তা বুঝতে পারা এবং অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করাও মানসিক দৃঢ়তার অংশ।

সব সময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করাই শক্ত হওয়ার প্রমাণ নয়। মনোবিজ্ঞানী অ্যাডাম বোরল্যান্ডের মতে, নেতিবাচক আবেগ অনুভব করার সুযোগ দেওয়াও রেজিলিয়েন্সের অংশ। কথা বলা, ডায়েরি লেখা কিংবা নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করে নেওয়া এতে সাহায্য করে।

ভয়, রাগ বা হতাশার বদলে পরিস্থিতিতে আপনি কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া মানসিক দৃঢ়তার লক্ষণ। নিজের ভূমিকা স্বীকার করে সমাধানের দিকে এগোনোও এর অংশ।

সব পরিকল্পনা অনুযায়ী জীবন চলে না। পরিস্থিতি বদলে গেলে নিজের প্রত্যাশা বা পদ্ধতিও বদলাতে পারা মানসিক নমনীয়তার পরিচয়।

চাপের মুহূর্তে গভীর শ্বাস নেওয়া, কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা ইতিবাচকভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলা—এসব ছোট অভ্যাস নিজেকে সামলাতে সাহায্য করে।

মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকলেও খাওয়া, গোসল, ঘর গোছানো বা প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে যাওয়া রেজিলিয়েন্সের লক্ষণ। ছোট, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য পূরণের অভ্যাসও মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।

মানসিক দৃঢ়তা মানেই সব সময় চাপের মধ্যে থাকা নয়। কখন থামতে হবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে, তা বুঝতে পারাও জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, পুষ্টিকর খাবার ও সামাজিক যোগাযোগ চাপ সামলাতে সাহায্য করে।

কখনো মনে হতে পারে, আজ শুধু দিনটা পার করাই কঠিন। তবু আপনি উঠে দাঁড়ান, প্রয়োজনীয় কাজ করেন এবং পরদিন আবার চেষ্টা করেন। এটিও মানসিক দৃঢ়তা। বোরল্যান্ডের মতে, সবকিছু নিখুঁত করার চেষ্টা না করে কখনো কখনো ‘চলার মতো’ কিছুকে মেনে নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে ক্লান্ত সময়ে ছোট ছোট সাফল্যগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার।

সূত্র: দ্য হেলদি