আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে দুর্দান্ত শুরু করলেও চা-বিরতির আগে নাটকীয়ভাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে আফগান বোলারদের শাসন করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোলেও দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ চা-বিরতি পর্যন্ত ৫২ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৬ রান সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে লিটন দাস ৩ রান এবং মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রানে অপরাজিত আছেন।

দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। ২৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে নিয়েছিল স্বাগতিক দল। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ঝড়ো ব্যাটিং করে ৭১ বলে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কাসহ ৮৩ রান করে আউট হন। শাদমান ইসলামের সঙ্গে তিনি উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান যোগ করেন।

মধ্যাহ্নবিরতির পর শাদমান ও মুমিনুল হক দলের সংগ্রহ আরও সামনে এগিয়ে নেন। ৯৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন শাদমান। তবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি তার ইনিংস। ৩৮তম ওভারে মোহাম্মদ সেলিম সফির একটি শর্ট বল পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগ সীমানায় জিয়াউর রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন তিনি। এই ওপেনার ১১১ বলে ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন।

শাদমানের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৮৪ রান। এরপর মুমিনুল হকের সঙ্গী হিসেবে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কাইস আহমেদের প্রথম ওভারেই একটি ছক্কা ও চার মারেন তিনি। পরবর্তীতে ইয়ামিন আহমদজাইকেও একটি ছক্কা হাঁকান শান্ত।

অন্যদিকে মুমিনুল হকও সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। তবে ৪৮তম ওভারে ইয়ামিনের বলে কভারে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ৭০ বলে চারটি চারের সাহায্যে ৩৯ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

মুমিনুলের বিদায়ের পর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। ৫০তম ওভারে ইয়ামিনের একটি নিখুঁত ইয়র্কারে বোল্ড হন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। ৭টি বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।

ঠিক তার পরের ওভারেই ফিরে যান অধিনায়ক শান্ত। কাইস আহমেদের গুগলি বুঝতে ব্যর্থ হয়ে প্রথম স্লিপে আবদুল মালিকের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৪২ বলে একটি চার ও দুটি ছক্কাসহ ২৯ রান করেন শান্ত।

উল্লেখ্য, ৪৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২২০ রান। সেখান থেকে মাত্র ৫ রান যোগ হতেই মুমিনুল, মুশফিক ও শান্তর উইকেট হারিয়ে ২২৫ রানে ৫ উইকেটে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। চা-বিরতির আগে লিটন ও মিরাজ আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি।