বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০১৯ সালে এই দুই দেশ প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় টেস্ট। এখন আবুধাবিতে শুরু হতে যাচ্ছে দুই দলের মধ্যকার তৃতীয় টেস্ট ম্যাচটি। এই লড়াইয়ের আগে আগের দুটি ম্যাচে ব্যাটে ও বলে কারা ছিলেন সবচেয়ে কার্যকর, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ব্যাটিং পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, সবার উপরে রয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ২০২৩ সালে দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচে তিনি জোড়া সেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি গড়েন। শুধুমাত্র একটি ম্যাচেই তিনি ২৭০ রান সংগ্রহ করেন। এই ফরম্যাটে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে নাজমুলই শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে নাজমুল দলের সদস্য ছিলেন না।
রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মুমিনুল হক। দুই টেস্ট ম্যাচেই অংশ নেওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মোট ১৯১ রান করেছেন। ২০২৩ সালের সেই স্মরণীয় ম্যাচে নাজমুলের জোড়া সেঞ্চুরির পাশাপাশি মুমিনুলও একটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে বাকি তিনজনই আফগানিস্তানের হয়ে খেলেছেন—তারা হলেন আসগর আফগান, রহমত শাহ এবং আফসার জাজাই।
অন্যদিকে বোলিংয়ের পারফরম্যান্সে সবার উপরে রয়েছেন আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান। ২০১৯ সালে দুই দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচে তিনি মোট ১১টি উইকেট শিকার করেন। তবে পরবর্তী টেস্ট ম্যাচে রশিদ দলে ছিলেন না এবং এবারের ম্যাচেও এই লেগ স্পিনারের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বোলারদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম। দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলে তিনি মোট ৮টি উইকেট নিয়েছেন। তৃতীয় স্থানে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি দুই ম্যাচে ৬টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। শীর্ষ পাঁচ বোলারের তালিকায় বাকি দুজন হলেন আফগানিস্তানের জহির খান এবং বাংলাদেশের ইবাদত হোসেন।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের দুটি টেস্ট ম্যাচই বাংলাদেশ তাদের নিজেদের মাটিতে খেলেছে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ২২৪ রানে পরাজিত করেছিল আফগানিস্তান। তবে চার বছর পর সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয় বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৫৪৬ রানের এক বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ।