বিএনপি সাধারণ মানুষের দল এবং এখানে ধর্ম ও বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে দেশের সকল নাগরিকের মিলেমিশে বসবাস করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কৃষক, শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের মাঝে সহায়তা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা যেন আনন্দ, শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হয়, সেজন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”

সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি আরও বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থী এবং জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তা এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, কৃষক এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ উপজেলার ১ হাজার ৮০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার, নেট এবং সবজি বীজ বিতরণ করা হয়। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পাশাপাশি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং গৃহহীন ও অসহায় মানুষের মাঝে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়া ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি রোগ, প্যারালাইসিস, হৃদ্‌রোগ, থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ার মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। একই অনুষ্ঠানে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে বিভিন্ন ক্লাব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।