চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লেগুনার চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছে এক শিশু। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নাখাইন গ্যাস পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম তাসফিয়া সুলতানা, যার বয়স ছিল মাত্র ৭ বছর। সে সাতকানিয়া উপজেলার আবু হানিফের কন্যা। তাসফিয়ার বাবা ওই এলাকার একটি মুদিদোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। পেশাগত কারণে পটিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল শিশুটির পরিবার। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরেই ছিল তাদের আবাসস্থল।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুসারে, তাসফিয়া বাদাম কেনার উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি লেগুনার নিচে চাপা পড়ে সে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাসফিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায়, তাসফিয়ার মা রুজি আকতার শোকার্ত হয়ে মেয়ের জন্য বিলাপ করছেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সকালে তাসফিয়া বাদাম কেনার জন্য ঘর থেকে একা বের হয়। এরপর গাড়িচাপায় তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে।”
যে লেগুনার চাপায় শিশু তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে, স্থানীয়রা সেই লেগুনার চালক সাইদুল ইসলামকে ধরে হাসপাতাল এলাকায় নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি নগরের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে পটিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। নাইখাইন গ্যাস পাম্পের সামনে পৌঁছালে চট্টগ্রামমুখী একটি বাসের হর্নের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিশুটি দৌড় দেয়। এর ফলেই সে তাঁর লেগুনার চাকার নিচে চলে আসে। তিনি আরও জানান, তাঁর লেগুনার মাধ্যমেই শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তৃষ্ণা সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শিশুটিকে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বারেক জানান, শিশুটি সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগামী লেগুনার চাপায় গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চালককে আটক করা হয়েছে।