চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। আজ শুক্রবার রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলার জাফর আহমদ ডিগ্রি কলেজ এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অটোরিকশার দুই যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির প্রচণ্ড মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই আনুমানিক ২৭ বছর বয়সী এক তরুণের মৃত্যু হয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। আহত বাকি পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ করে। এর ফলে রাত আটটা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাতকানিয়া থানা-পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন গাড়িটি ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাতকানিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বাসটিতে কী কারণে আগুন লেগেছে, তা জানা যায়নি। সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”