লাল টকটকে ছোট ছোট দানা, আর মুখে দিলেই মিষ্টি-টক স্বাদের এক অদ্ভুত অনুভূতি- ডালিম বা বেদানা পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। স্বাদের দিক থেকে তো বেদানা সামনের সারিতে আছেই, কিন্তু এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন?

আমরা অনেকেই জানি বেদানা শরীরের জন্য ভালো, তবে ১ কাপ বেদানা প্রতিদিন খেলে আমাদের শরীরে কী পরিমাণ পুষ্টি প্রবেশ করে- তা জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। পুষ্টিবিদদের মতে, বেদানা শুধু সাধারণ একটি ফল নয়, এটি পুষ্টি উপাদানের এক বিশাল ভান্ডার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন ১ কাপ বেদানা খেলে কী হয়!

১ কাপ বেদানায় ঠিক কতটা পুষ্টি থাকে?

আমরা যখন ১ কাপ (আনুমানিক ১৭৪ গ্রাম) বেদানার দানা খাই, তখন তা থেকে আমাদের শরীরে যেসব পুষ্টি উপাদান যায় সেগুলো হলো-

• ক্যালোরি: প্রায় ১৪৪ ক্যালোরি

• কার্বোহাইড্রেট: ৩২ থেকে ৩৩ গ্রাম

• ফাইবার (খাদ্যতন্তু): প্রায় ৭ গ্রাম

• প্রোটিন: ৩ গ্রাম

ফলে দেখা যাচ্ছে, বিকেলে বা সকালে হালকা নাশতা হিসেবে ১ কাপ বেদানা খেলে পেটও বেশ কিছুক্ষণ ভরা থাকে, আবার অনায়াসেই প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ফাইবার পাওয়া যায়।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ

ভিটামিন ও মিনারেলসের দিক থেকেও বেদানা কোনো অংশে কম নয়। ১ কাপ বেদানার দানা থেকে আপনি পাবেন-

ভিটামিন সি: প্রায় ১৮ মিলিগ্রাম। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজ করে।

ভিটামিন কে: ২৮ থেকে ২৯ মাইক্রোগ্রাম। এটি হাড়ের স্বাস্থ্য ও রক্ত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে।

ফোলেট: প্রায় ৬৬ মাইক্রোগ্রাম।

পটাশিয়াম: প্রায় ৪১১ মিলিগ্রাম। যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও নানা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া ঠিকঠাক চালাতে এই প্রতিটি পুষ্টি উপাদান প্রতিদিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

হজমের জন্যও উপকারি

ডালিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এতে থাকা ফাইবার। ১ কাপ বেদানায় প্রায় ৭ গ্রাম ফাইবার বা খাদ্যতন্তু পাওয়া যায়। দৈনিক ফাইবারের চাহিদার একটা বড় অংশ কিন্তু এই ১ কাপ বেদানা থেকেই পূরণ হতে পারে। অনেকেরই পেটের নানা সমস্যা থাকে কিংবা হজমে ব্যাঘাত ঘটে। এই ফাইবার কেবল হজম প্রক্রিয়াই স্বাভাবিক রাখে না, বরং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে নিয়মিত মলত্যাগে বেশ সাহায্য করে।

শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের ভরপুর

বেদানাতে পলিফেনল-সহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণ শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এই যৌগগুলি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মনে রাখা ভালো, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ হলেও বেদানাকে সরাসরি কোনো কঠিন রোগের ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প মনে করা উচিত নয়।

জুস নাকি গোটা বেদানা- কোনটি বেশি উপকারী?

আমরা অনেকেই ফলের দানা না চিবিয়ে এক গ্লাস জুস বানিয়ে খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন কথা বলছেন।

যখন আপনি গোটা বেদানার দানা চিবিয়ে খান, তখন ভেতরের ফাইবারটা পুরোটাই আপনার শরীরে পৌঁছায়। কিন্তু বেদানার রস বা জুস বানিয়ে ফেললে ফাইবারের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়। বেশিরভাগ ফাইবারই ছেঁকে বাদ দিতে যায়। এক কাপ বেদানার রসে হয়তো ১৩৫ ক্যালোরি মেলে, কিন্তু ফাইবার খুব সামান্যই পাওয়া যাবে।

তাই সবটুকু পুষ্টি পেতে বেদানার জুসের চেয়ে গোটা দানা চিবিয়ে খাওয়াই সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ।

পরিমাণের দিকেও নজর দেয়া জরুরি

বেদানা যতই উপকারী ও পুষ্টিকর হোক না কেন, কোনো একটি ফলকে 'সব রোগের ওষুধ' হিসেবে দেখা ঠিক না। অতিরিক্ত কোনো কিছুই শরীরের জন্য ভালো না। বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, কিডনির কোনো জটিল সমস্যা থাকে বা নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় নিয়মিত বেশি পরিমাণে বেদানা যুক্ত করার আগে একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমাণমতো ডালিম বা বেদানা খাওয়া ভালো একটি অভ্যাস। এটি আপনার শরীরে ভিটামিন, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যোগ করে আপনাকে ভেতর থেকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক কাপ বেদানা বা ডালিম রাখতে পারেন।

সূত্র: টিভি ৯ বাংলা