শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আশিক মাদবরকে মনোনীত করায় স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, আশিক মাদবর এর আগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই রাজনৈতিক অতীত প্রকাশ্যে আসতেই দলের ভেতর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির অনুমতিক্রমে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আশিক মাদবরকে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নতুন দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
তদন্ত করে দেখা গেছে, আশিক মাদবর অতীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২৪ সেশনে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তবে এই বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি ইমন সরদার। তিনি জানান, “২০২৬ সালের মার্চ মাসে আশিক মাদবরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
আশিক মাদবরের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আশিককে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয় যুবদলের এক অংশ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে দলের জন্য কাজ করা ত্যাগী নেতাদের পাশ কাটিয়ে অন্য একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে আশিকের নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করে একজন যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আক্তার মাঝি এই নিয়োগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “গত মাসে জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদে আশিক মাদবরের নাম দেখে আমরা হতাশ হয়েছি।”
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলের এত ত্যাগী নেতাকর্মী থাকতে কীভাবে অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা একজনের নাম কমিটিতে আসে? এটা আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারি না। অনতিবিলম্বে তার নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।”
এই গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে আশিক মাদবরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়। তবে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি, ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ আশিক মাদবরের পক্ষ নিয়ে বলেন, আশিক একজন শিক্ষিত ও ভদ্র ব্যক্তি। তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
আশিক মাদবরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, “এগুলো হয়তো কেউ এআই দিয়ে তৈরি করতে পারে।”