তথ্য গোপন করে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে দপ্তর সম্পাদক আশিক মাদবর জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও সেই তথ্য গোপন করে যুবদলের কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “তথ্য গোপন করে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে আশিক মাদবর জিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির বিশেষ নির্দেশে এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আশিক মাদবর জিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে তার নাম তালিকায় আসার পরপরই স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, আশিক মাদবর জিয়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু সেই তথ্য গোপন করেই তিনি যুবদলের জেলা কমিটিতে পদ লাভ করেছেন।

পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মুক্তকণ্ঠ এই বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আশিক মাদবর জিয়া ২০২২ সালে গঠিত ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা শাখার কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ওই সংগঠনটির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া ২০২৪ সেশনে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মুক্তকণ্ঠে সংবাদটি প্রকাশের পর কেন্দ্রীয় যুবদল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করে। এরপর তথ্য গোপন করে জেলা কমিটিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাকে দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবির বলেন, “আশিক মাদবর তথ্য গোপন করেছিল বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। পরে কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানোর পর তারা তাকে তথ্য গোপন করার কারণে তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে।”