কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিতে পদ মনোনয়নে অর্থ লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নসহ শীর্ষ নেতাদের জড়িয়ে যেসব কথা প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ফুহাদ রেজা ফাহিম বলেন, “দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের একটি তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।” তবে এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের একটি অংশ ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জেলা যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের একটি ছবিকে অর্থ লেনদেনের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, কিছু কিছু প্রচারণায় কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানের নামও জড়ানো হয়েছে।
এই সব অভিযোগের বিপরীতে ফুহাদ রেজা ফাহিম জানান, তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে ব্যাংক গিয়েছিলেন। সেখানে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতির সঙ্গে তাঁর দেখা হয় এবং একটি ছবি তোলা হয়। তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। একটি স্বাভাবিক সাক্ষাৎকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অর্থ লেনদেনের ঘটনায় রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং অভিযোগকারীদের এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ফুহাদ রেজা ফাহিম বলেন, গত ১৭ বছরে তিনি কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেননি বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা অসত্য। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা ও নানা বাধার মধ্যেও দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ-সংক্রান্ত ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তাও নাকচ করেছেন জেলা যুবদলের সভাপতি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। সাত বছর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী কমিটিতে তিনি সিনিয়র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে মতভিন্নতা বা প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কারণে হতাশা থাকতে পারে। তবে সেই হতাশা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তোলা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করা সংগঠনের ঐক্য ও শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, “গুজব নয়, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলা উচিত।”
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ সভাপতি জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ন সম্পাদক জব্বার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি এবং দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।