কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া কুকুরকে উদ্ধারে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর উদ্ধার করা হলেও, এই প্রক্রিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য ওই কর্মকর্তা গাড়ির খরচ ও জ্বালানি ব্যয়ের কথা বলেছিলেন। তবে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুলিয়ারচর পৌরসভার দোয়ারিয়া এলাকায়। স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সৈয়দ শাহানদের বাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত কূপে একটি কুকুর পড়ে যায়। প্রাণীটিকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা দড়ি, বালতি এবং মই ব্যবহার করে কুকুরটিকে তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। শেষপর্যন্ত নিরুপায় হয়ে তারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও উদ্ধারকারী দল না আসায় তারা পুনরায় যোগাযোগ করেন। তখন তাদের জানানো হয় যে, কর্মীরা প্রস্তুত থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর অনুমতির জন্য দীর্ঘ যোগাযোগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ফায়ার সার্ভিসে ফোন করা স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ তুহিন অভিযোগ করেন, ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা তাকে প্রথমে জানান যে, এ ধরনের উদ্ধারকাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। পরবর্তীতে ওই কর্মকর্তা জানান, গাড়ি পাঠাতে হলে তার খরচ ও জ্বালানি ব্যয় বহন করতে হবে। তুহিনের দাবি, এই কথোপকথনের কলরেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

ফয়সাল আহমেদ তুহিন আরও জানান, প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে স্থানীয়রা রাজি ছিলেন। অবশেষে রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং প্রায় ২৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে কুকুরটিকে জীবিত অবস্থায় কূপ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এই বিষয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে আমরা ৯৯৯-এ একটি কল পাই। পরে জেলা ও বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আমরা কূপ থেকে কুকুরটি উদ্ধার করি।’

অন্যদিকে, কুকুর উদ্ধারে খরচের কথা চাওয়ার অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটা ভুয়া কথা। অনেক সময় মানুষ সেন্টিমেন্টাল হয়ে এ ধরনের কথা বলে বিভাগের স্যারের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা কুকুরটি উদ্ধার করেছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কুকুর বা বিড়ালের মতো প্রাণী উদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রাণীটি হিংস্র কি না, তা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নিয়ম রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এই ধরনের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেন।