কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়ার হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। একই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে প্রশাসনিক কারণে ক্লোজড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মব সৃষ্টি করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তার হাতে হাতকড়া লাগালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশকে ঘেরাও করেন। ধস্তাধস্তির সময় উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তাদের কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এরপর পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে মাধবদী এলাকা থেকে রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। এসআই শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ২২৪, ২২৫, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রেনু মিয়ার আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রেনু মিয়া উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে।