কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচর উপজেলার সীমান্তবর্তী দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রাম এবং কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ষোলরশি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন দুই পক্ষের উত্তেজিত লোকজন ইট-পাটকেল এবং বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০-১২ দিন আগে আতকাপাড়া ও ষোলরশি গ্রামের যুবকদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ম্যাচটি চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। যদিও পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মধ্যস্থতা করে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে দিয়েছিলেন।

তবে সোমবার বিকেলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। আতকাপাড়া গ্রামের মো. বাবুল মিয়ার ছেলে এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. হেদায়েতুল্লাহ ছয়সূতি হাইস্কুলে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ফেরার পথে ষোলরশি গ্রামের কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সন্ধ্যার দিকে তারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এই পুরো ঘটনা সম্পর্কে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান মুক্তকণ্ঠ জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভৈরব ও কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতারা সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।”