ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই শারীরিক অবস্থায় পা একটি অত্যন্ত নাজুক অঙ্গে পরিণত হয়। তাই দৈনন্দিন রুটিনে নিজের পায়ের অবস্থা নিজে পরীক্ষা করার গুরুত্ব অপরিসীম। আজ ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রিস্ট দিবস উপলক্ষে পায়ের যত্ন ও সচেতনতা বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, নিয়মিত নিজের পা দুটি খুব ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পায়ের তালুর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে এবং প্রয়োজনে একটি আয়নার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। পায়ের ত্বকের যেকোনো ধরনের রং পরিবর্তন, লালচে দাগ, ক্ষত, কাটাছেঁড়া, আঘাতের চিহ্ন, পোড়া দাগ, কর্ন বা কড়া এবং নখ দেবে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজে নিজে কোনো চিকিৎসা বা পদক্ষেপ না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসককে জানানো উচিত।
দ্বিতীয়ত, পায়ের আঙুল এবং আঙুলের মধ্যবর্তী ফাঁকগুলো পরীক্ষা করতে ভুলবেন না। কারণ আঙুলের ফাঁকে প্রায়ই ছত্রাক সংক্রমণ ঘটে, যা থেকে পরবর্তীতে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
তৃতীয়ত, পা দুটি যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখা জরুরি। যদি হালকা গরম পানিতে পা চুবিয়ে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আগে হাত দিয়ে পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। পরিষ্কার করার পর নরম কাপড় বা তোয়ালের সাহায্যে আলতো চাপ দিয়ে পা শুকিয়ে নিতে হবে; খুব বেশি ঘষাঘষি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
চতুর্থত, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। অনেক সময় শুষ্ক ও ফাটা ত্বকের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই পরিষ্কার মোজা পরতে হবে। জুতা পায়ে দেওয়ার আগে তা ভালো করে ঝেড়ে নেওয়া উচিত, কারণ জুতার ভেতরে পাথরের টুকরো, নুড়ি বা কোনো ধারালো বস্তু থাকতে পারে, যা পায়ে ইনজুরি বা আঘাতের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মর্নিং ওয়াকে যাওয়ার সময় অবশ্যই ওয়াকিং শু ব্যবহার করতে হবে।
জুতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন তা যথেষ্ট প্রশস্ত হয় এবং পা ভালোভাবে গলিয়ে নেওয়া যায়। জুতার ভেতরে আঙুলগুলো যেন ভাঁজ হয়ে না থাকে। পা ঢাকা থাকে এবং নরম সোলযুক্ত মেডিকেটেড জুতা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো। খোলা স্যান্ডেল বা স্ট্র্যাপযুক্ত স্যান্ডেল ব্যবহার করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মোটেও সমীচীন নয়।
সবশেষে, কোনো অবস্থাতেই খালি পায়ে হাঁটা যাবে না, এমনকি ঘরের ভেতরেও নয়। নখ কাটার জন্য গোসলের পরের সময়টি সবচেয়ে আদর্শ। তবে নখ কাটার সময় খুব বেশি গভীর করে কাটা যাবে না, বরং সোজা করে কাটা উচিত।
এই পরামর্শগুলো দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. তানজিনা হোসেন, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।