কাগজে-কলমে আপনার বয়স হয়তো ৩০, ৪০ কিংবা ৫০ বছর। কিন্তু আপনার শরীরের প্রকৃত বয়স কি আদতে ততটাই? বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানীরা জন্মগত বয়সের পাশাপাশি ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়সের ধারণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। শরীরের কোষ, টিস্যু এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই জৈবিক বয়সের হিসাব করা হয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক লক্ষণ ইঙ্গিত দিতে পারে যে, আপনার শরীর প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। তবে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এই বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করা সম্ভব হতে পারে।

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে, আগের মতো সহজে শক্ত ঢাকনা খুলতে পারছেন না? কিংবা ভারী ব্যাগ বহন করতে গিয়েও কষ্ট হচ্ছে? এর পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে ‘হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ’ বা হাতের আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যাওয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ সুস্থভাবে বয়স বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। হাত ও কনুইয়ের পেশিগুলোকে সব সময় শক্ত ও সচল রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম অথবা বিশেষ বল চেপে ধরার মতো সহজ অনুশীলনগুলো বেশ উপকারী হতে পারে।

সিঁড়ি ভাঙার সময় আমাদের পেশির শক্তি, শরীরের ভারসাম্য, চলাফেরার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক ফিটনেস—সবকিছুরই এক ধরণের পরীক্ষা হয়। বয়সের সাথে সাথে শরীরের পেশির ভর কমে যাওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সারকোপেনিয়া। এই সমস্যার কারণে সিঁড়ি ভাঙার মতো সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, হাঁটার গতি আপনার পায়ের পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে। যারা তুলনামূলক দ্রুত এবং স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারেন, তাদের শারীরিক ও জ্ঞানীয় সক্ষমতা সাধারণত ভালো থাকে বলে মনে করা হয়।

সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বা হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে যদি আপনাকে রেলিং অথবা অন্য কোনো কিছুর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খেয়াল করা প্রয়োজন। ভারসাম্য কমে যাওয়া মূলত পেশির শক্তি হ্রাস এবং স্নায়ু-পেশির সমন্বয় কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

ঘুমের ক্ষেত্রে শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তা দেখলেই হয় না, ঘুম কতটা নিরবচ্ছিন্ন সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা প্রায় ১২ হাজার মানুষের ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, রাতে বারবার অল্প সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া তুলনামূলক ‘বয়স্ক’ ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘুমের মান উন্নত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করা এবং ঘুমানোর আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা কার্যকর হতে পারে।

শরীরের ওজন খুব একটা না বাড়লেও যদি কোমরের কাছে পোশাক টাইট হয়ে যায়, অথচ শরীরের অন্য অংশে ঢিলেঢালা মনে হয়, তবে বুঝতে হবে শরীরের গঠনে বয়সজনিত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। পেশি কমে গিয়ে পেটের আশপাশে চর্বি জমলে হৃদ্‌রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

শরীরের ত্বকে সামান্য আঘাতেই যদি কালশিটে পড়ে, তবে তা ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তনের লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বক পাতলা ও দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে রক্তনালিগুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়। এই সমস্যা রোধে সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং শরীর ঢেকে রাখা উপকারী।

ত্বকে বলিরেখা পড়া, ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কালচে দাগ হওয়া বয়স বাড়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এই লক্ষণগুলো যদি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক আগেই দেখা দেয়, তবে তা ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, ধূমপান, বায়ুদূষণ, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। ত্বক সুরক্ষায় নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: দ্য হেলদি