ডায়াবেটিস রোগের প্রভাবে অনেক সময় পায়ের স্নায়ু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে ধীরে ধীরে পায়ের অনুভূতি হ্রাস পেতে থাকে। এই অবস্থার কারণে পায়ে কোনো ক্ষত সৃষ্টি হলেও রোগী অনেক সময় তা বুঝতে পারেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাটিকে ‘ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’ বলা হয়। স্নায়ুর এই পরিবর্তনগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য বর্তমানে ভাইব্রাসেন্স নামের একটি ছোট ও আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই যন্ত্রটি ব্যবহারের প্রক্রিয়া বেশ সহজ। পরীক্ষার সময় পায়ের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যন্ত্রটির কম্পনদণ্ড রাখা হয় এবং এরপর সেখানে নিয়ন্ত্রিত কম্পন প্রয়োগ করা হয়। রোগী ঠিক কোন পর্যায়ে কম্পনটি অনুভব করতে পারছেন, তার ওপর ভিত্তি করে তাঁর কম্পন অনুভূতির সীমা নির্ধারণ করা হয়।
প্রক্রিয়াটি এমন যে, খুব হালকা কম্পন থেকে শুরু করে রোগী যে পর্যায়ে প্রথমবার কম্পনটি অনুভব করতে সক্ষম হন, সেই নির্দিষ্ট মাত্রাটি নথিভুক্ত করা হয়। সাধারণত যাদের স্নায়ুর অনুভূতি কমে যায়, তাদের ক্ষেত্রে কম্পন অনুভব করার জন্য তুলনামূলক বেশি মাত্রার কম্পনের প্রয়োজন হয়।
ফলে, পরীক্ষায় যদি বেশি মান পাওয়া যায়, তবে তা স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যাওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই যন্ত্রের বিশেষত্ব হলো, প্রাপ্ত ফলাফলগুলো সংরক্ষণ করা যায়, যা পরবর্তী পরীক্ষার সাথে তুলনা করতে সাহায্য করে। একবার পূর্ণ চার্জ দিলে এই যন্ত্রটি দিয়ে ৭০ বারের বেশি পরীক্ষা করা সম্ভব। সাধারণত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এই যন্ত্রটি ব্যবহার করে থাকেন, তবে অনেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাড়িতে ব্যবহারের জন্য এটি কিনে থাকেন।
মূল্য কথা বলতে গেলে, বাংলাদেশি টাকায় এই যন্ত্রটির আনুমানিক দাম ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশে আমদানির প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
তথ্যসূত্র: পাবমেড