বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক। দুই দিনব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চলমান এই বৈঠকে ঢাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করবে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর ভারত কর্তৃক আরোপিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং সীমান্তভিত্তিক স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামোগত জটিলতা নিরসনের মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবারই নয়াদিল্লি পৌঁছেছে।

প্রতিনিধিদলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের সামনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট প্রায় সব মূল দাবি ও প্রস্তাব পেশ করা হবে। তবে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোন বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আনা হবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এটি মূলত একটি কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্র, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান নয়।

ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকলেও বহুল আলোচিত ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সিইপিএ) এই সেশনের এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়নি। তবে উভয় দেশের মধ্যকার আকাশচুম্বী বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর বিষয়টি আলোচনায় জোরালোভাবে উঠে আসতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা যেখানে নয়াদিল্লিতে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য পাঠাতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বিপরীত দিক থেকে ভারত বাংলাদেশে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বর্তমানে চীনের পর ভারত থেকেই সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ, যার একটি বিশাল অংশই হলো দেশীয় পোশাক ও শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তুলা, সুতা এবং অন্যান্য কাঁচামাল।