জাতীয় প্রেসক্লাবের গত এক বছরের প্রয়াত সদস্যদের গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। এই আয়োজনে প্রেসক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, গত এক বছরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মোট ২৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের এই প্রস্থানে কেবল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরেই শূন্যতা তৈরি হয়নি, বরং দেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের অগ্রযাত্রায় এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে আয়োজিত এই সভায় গত এক বছরের (২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে এ বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত) প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। উল্লেখ্য, ২০ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং এই উপলক্ষ্যে ১৭ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সূচনা হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে সভার শুরুতে প্রয়াত সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভার সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, যিনি প্রয়াত সদস্যদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। স্মরণ করা হয় নিখিল মানখিন, আখতার হোসেন মাসুদ, আবদুল হালিম চৌধুরী, ইব্রাহিম আজাদ, প্রশাস্ত ঘোষাল, জাকারিয়া কাজল, আলী মামুদ, সালিম সামাদ, আর এম দেবনাথ, খন্দকার গোলাম আজাদ, এ এস এম হাবিবুল্লাহ, গোলাম কিবরিয়া, তালুকদার হারুন, আল মুজাহিদী, শাহেদ কামাল, মোহাম্মদ শাহজাহান, মৃণাল কৃষ্ণ রায়, নূরুল হাসান খান, রফিক উল্লাহ শিকদার, খালেদ হায়দার, কাজিম রেজা, আমিরুল মোমেনীন ও তৌফিক ইমরোজ খালিদী-কে।

অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আবদুল হাই শিকদার বলেন, “প্রয়াত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনেকের মধ্যে ছিল অনন্য গুণ, সৃজনশীলতা। তাঁরা তাঁদের সেই গুণের আলোয় সমাজকে আলোকিত করেছেন। তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকেরা তাঁদের আদর্শে উজ্জীবিত হবে।”

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, প্রয়াত সদস্যদের লেখনীর মাধ্যমে দেশের সংবাদমাধ্যম সমৃদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, “ক্লাবকে তাঁদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের পদচারণে ক্লাব মুখর থাকত। অনেকে ক্লাব পরিচালনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাই তাঁদের চলে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের কাছে যেমন গভীর শোকাবহ, তেমনি ক্লাবের সব সদস্যের কাছেও বেদনাদায়ক।”

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, প্রয়াত সদস্যদের মধ্যে অনেকে ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক। তাঁরা কেবল পেশাগত ক্ষেত্রেই বিশিষ্ট ছিলেন না; দেশের ইতিহাস–সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে তরুণদের অনেক কিছু শেখার ছিল।

জাতীয় প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা সাংবাদিকদের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ পেশায় আর্থিক সংকটসহ নানা অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকি রয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন প্রয়াত সাংবাদিকেরা।

আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মহসীন, মোমিন হোসেন, শাহনাজ বেগম, প্রবীণ সদস্য শেখ এনামুল হক, মাহবুবুর রহমান, শিরিন সুলতানা, মোশাররফ হোসেন এবং কাজিম রেজার কন্যা ফারহানা রেজা।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজ বলেন, “সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি ও ধারাবাহিক চর্চায় প্রয়াত সাংবাদিকদের অনেকেই ছিলেন অগ্রসৈনিক। তাঁদের সুকৃতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।”

আলোচনা সভার শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের পেশ ইমাম মাওলানা মনিরুজ্জামানের পরিচালনায় প্রয়াত সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।