শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর আদর্শিক উত্তরাধিকার, বর্ণাঢ্য অবদান এবং সকল শহীদ, মজলুম ও আহতদের স্মরণে ‘উত্তরাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত আলোকায়ন মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স, ঢাকা মহানগর উত্তর।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আহমেদ আলী কাসেমী। তিনি বলেন, "আল্লামা শাহ আহমাদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বীনি ও জাতীয় জীবনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও আমানতকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।"

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী দেশের রাজনীতি ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী রাজনীতির স্বার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় যদি আমরা আলেমদের সমন্বিত করতে না পারি, তবে মূলধারার রাজনীতি কোনো না কোনো কৃত্রিম সংকট বা দুর্ভিক্ষের আড়ালে পণ্ড হয়ে যাবে।"

মাওলানা আযহারী আরও বলেন, "বাংলাদেশ যখনই কোনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়েছে, তখনই এ দেশের আলেম ও ছাত্র-জনতা দেশ-জাতির হাল ধরেছেন। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে তারা ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।"

তিনি উল্লেখ করেন, ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যরা নিজেদের কায়েদে মিল্লাত আল্লামা বাবুনগরী (রহ.)-এর আদর্শ ও ছায়াতলে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, "আমরা আমাদের ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার কখনো বিসর্জন দেব না; আমাদের আকাবিররা কখনো বিক্রি হননি, হবেনও না।"

অন্যদিকে, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী তার বক্তব্যে আল্লামা আহমদ শফী (রহ.)-এর বৈচিত্র্যময় জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতির কথা স্মরণ করেন। উপস্থিত সবাইকে বুজুর্গদের জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ পথচলায় এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।