সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে উন্মুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান। এই রহস্যজনক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজলাশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ট্রেনের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কালোবাজারি এবং মজুদদারির মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র পিবিআই সিলেটের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আহাদ।
এই বিষয়ে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, “আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মিস মামলা করেছেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে রেলস্টেশনের সার্ভারে থাকা গত তিন মাসের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হবে। কোনো ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হবে।”
জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো চলাচল করে। এসব ট্রেনের টিকিট অনলাইনে নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিষয়টি দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণের পর আদালতের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান স্বপ্রণোদিত হয়ে মিস মামলা নম্বর ০১/২০২৬ দায়ের করেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অসাধু মাধ্যমে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া যায়।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রেনের টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কারও কারও সহযোগিতায় একটি চক্র মুহূর্তের মধ্যে টিকিট সরিয়ে নিয়ে পরে তা বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে থাকতে পারে। এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের চরম হয়রানির পাশাপাশি সিলেটের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকিট বিক্রির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করতে আদালত নিজেই ট্রেনের টিকিট বিক্রির সরকারি ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক টিকিট এত অল্প সময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টিই আদালতের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে—এমন প্রবল সন্দেহের ভিত্তিতেই ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান এই স্বপ্রণোদিত মামলাটি করেন।
মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বর্তমানে পিবিআই সিলেটের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদ এই স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।