রাজবাড়ীর পাংশায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর মৎস্য প্রকল্পে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে। পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আসাদ মন্ডলের মাছের প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই বিষ প্রয়োগের ফলে পুকুরে থাকা প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মরে ভেসে উঠেছে।
ভুক্তভোগী আসাদ মন্ডল জানান, তিনি প্রায় ১৬-১৭ বছর সিঙ্গাপুরে শ্রম দিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তা দিয়ে এলাকায় এই মাছের প্রজেক্ট গড়ে তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আসাদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।
আসাদের আরও অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে তার মাছের প্রজেক্টে প্রবেশ করে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। সেই সময় পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে হামলাকারীরা যাওয়ার সময় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে তিনি জানান। এরপর রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে তার অভিযোগ।
আসাদের চাচাতো ভাই রফিক মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, “যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল লোকজন নিয়ে অস্ত্রসহ তার ভাইয়ের পুকুরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয়। সকালে পুকুরে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।”
আসাদ মন্ডলের বাবা মোহাম্মদ আলী মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কালাম তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছিলেন। বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। মঙ্গলবারও এসে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি যে বা যারাই ঘটিয়ে থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, “পুকুরের চারপাশে থাকা তারকাঁটার বেড়া ও প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। একই দিন রাতে ওই পুকুরের মাছ নিধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়।”
তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”