পাথর কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় ভুগছেন। একই সাথে চালকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি দেখা গেছে; তাদের ৫২ শতাংশের বেশি অন্তত একটি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন, যা সাধারণ মানুষের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।
বিশ্ব ফুসফুস দিবস উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান চৌধুরী ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত ওই বিভাগের ২১টি গবেষণার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।
তার উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, লালমনিরহাটের পাথর কাটার কারখানার শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ রয়েছে। অন্যদিকে, রংপুরের চালকল শ্রমিকদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৩ শতাংশের মাঝে অন্তত একটি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ দেখা গেছে। বিপরীতে, যারা ধুলার সংস্পর্শে আসেন না, তাদের মধ্যে এই উপসর্গের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
সেমিনারে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকার অদূরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এই ঝুঁকির পেছনে অধিক বয়স, ধূমপান এবং প্রচলিত দূষণকারী রান্নার পদ্ধতির প্রভাব উল্লেখযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. তাসনিম আফরীন জ্যোতি বিভাগের বিরল ও ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কেস উপস্থাপন করেন। তিনি কেবল সাধারণ রোগের কথা চিন্তা না করে রোগ নির্ণয়ের সময় এ ধরনের বিরল রোগের কথা মাথায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মানাল মিজানুর রহমান অক্সিজেন সরবরাহের নতুন যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারের এক পর্যায়ে থোরাসিক সার্জারির অধ্যাপক ও সিএইচএবির সহসভাপতি ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বায়োমেডিকেল প্রকৌশলে গবেষণা আরও বাড়ানোর তাগিদ দেন।