রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে (৫৬) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্তে তাকে আসামি হিসেবে পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং তার জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতকে বলেন, “আন্দোলন চলাকালে এই শিক্ষক ছাত্রদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বিগত সরকারের অপরাধের অংশীদার। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যখন এই অভিযোগগুলো তুলে ধরছিলেন, তখন কাঠগড়ার রেলিং ধরে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বিরোধিতা করে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের জামিন প্রার্থনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আসামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। তার দাবি, “মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক।” তবে উভয় পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুজ্জামান এই মামলায় অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন। সেই সময় পুলিশ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। তবে ওই সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জন সেখান থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করে।

পুলিশের দাবি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শ সমর্থন করা, অপরাধের ষড়যন্ত্র করা এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও মিটিংয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকায় একটি পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ অধ্যাপক জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে পল্টন থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই সময় থেকেই তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।