রাজধানীর তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান (৫৫) এবং তাঁর গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিম (৪২)-কে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে শুনানি শেষে মাহফুজুর রহমানের ছয় দিন এবং গোলাম মাওলার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক মাসুদুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলে, অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আতিকুর রহমান খান রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশান থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পরে গত ১৮ জুন তেজগাঁও থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ১৮ জুন সকাল পৌনে ১০টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কর্মী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করেন। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা লাঠিসোঁটা ও উসকানিমূলক ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান বলেও উল্লেখ করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল, উসকানিমূলক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড উদ্ধার করা হয়।

মাহফুজুর রহমান চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।