ভারতের প্রখ্যাত আলেম, প্রবীণ শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্ট আরবি সাহিত্যিক মাওলানা ড. সাইদুর রহমান আজমি নদভীর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান। লখনৌর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই প্রথিতযশা আলেমের মৃত্যুতে তিনি ব্যথিত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় হেফাজত মহাসচিব বলেন, “মাওলানা ড. সাইদুর রহমান আজমি নদভীর মৃত্যুর খবরে আমরা গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। তিনি ছিলেন একাধারে বরেণ্য শিক্ষক, লেখক, প্রজ্ঞাবান গবেষক এবং ইসলামি সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার ইন্তেকালে উপমহাদেশের ধর্মীয়, সাহিত্যিক ও শিক্ষাঙ্গনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
মাওলানা আজমির দীর্ঘ দ্বীনি খেদমত এবং তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনস্মৃতির কথা স্মরণ করে আল্লামা সাজিদুর রহমান উল্লেখ করেন যে, মাওলানা আজমি নদভী তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় নদওয়াতুল উলামার উন্নয়ন, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, আরবি সাহিত্যের চর্চা এবং ইসলামি সাংবাদিকতার সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি কালজয়ী মনীষী হজরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি হাসান নদভী (রহ.) এবং তৎকালীন সময়ের অন্যান্য প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে থেকে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নদওয়াতুল উলামার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষাধারাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে নদওয়াতুল উলামার বিশ্বখ্যাত আরবি সাময়িকী ‘আল-বায়সুল ইসলামি’র প্রধান সম্পাদক হিসেবে তাঁর লেখনী ও দিকনির্দেশনা বিশ্বজুড়ে আরবি ভাষা এবং শুদ্ধ ইসলামি চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
শিক্ষা ও ইসলামি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, “শিক্ষা ও ইসলামি সাহিত্যে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ভাষা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট. ডিগ্রি অর্জন এবং জামিয়া হিদায়া জয়পুর থেকে আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি তার কর্মময় জীবনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্বাক্ষর বহন করে।”
পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার কাছে মাওলানা আজমির আত্মার মাগফিরাত ও উচ্চ মর্যাদা কামনা করে হেফাজত মহাসচিব বলেন, “আল্লাহ তার যাবতীয় দ্বীনি ও ইলমি খেদমত কবুল করুন। তার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদাউসের সুউচ্চ মাকাম নসিব করুন। একই সঙ্গে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, অগণিত ছাত্র, ভক্ত-অনুরাগী এবং নদওয়াতুল উলামা পরিবারকে এই গভীর শোক সহ্য করার মতো তাওফিক দিন।”