ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দলগুলোর প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে পুনরায় আটক করেছে পুলিশ।

আজকের এই কর্মসূচির আগে যন্তর মন্তর সংলগ্ন জনপথের সাগররত্ন রেস্তোরাঁয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের আয়োজনে এক মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের শরিক দল হিসেবে বামপন্থী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অংশ নেন। এই মধ্যাহ্নভোজ শেষে রাহুল গান্ধী আজকের বিক্ষোভের ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আমি গতকালও বলেছিলাম, আমাদের ৩০০ সংসদ সদস্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আজ আমাদের পরিকল্পনা হলো যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করা।’

সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে ধরে লোকসভার এই বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা দেশবাসীকে জানাতে চাই, জ্ঞানেশ কুমার বৈধ সিইসি নন। এঁরা দেশদ্রোহী। তাঁকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’ নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এর মানে হলো মোদি নিজেই গণতন্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।’

এর আগে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে বিরোধী সংসদ সদস্যদের একটি পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকারি ভবনে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তবে এই আইনি পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেননি রাহুল। নিজের নামে প্রায় চার ডজন এফআইআর থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য এটাকে ১০০–তে নিয়ে যাওয়া। প্রতিটি এফআইআর আমার কাছে একেকটি পদকের মতো।’

উল্লেখ্য, গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে ভোটার তালিকার সংশোধনীতে অনিয়ম নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের দাবিতেই মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোট ‘নির্বাচন সদন’ বা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরের আগে প্রায় ২০০ সংসদ সদস্য নিয়ে পদযাত্রা শুরু হলেও পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে কর্মসূচিটি আকাশবাণী ভবনের সামনে এক নাটকীয় অবস্থান কর্মসূচিতে পরিণত হয়। রাহুল গান্ধী ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ অনেককে আটক করে।

কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন কমিশনের পেছনের গেট দিয়ে বের হওয়ার জন্য তারা আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই গেট তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় তারা অল ইন্ডিয়া রেডিওর প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে বাধ্য হন। পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার আগে টানা ৯ ঘণ্টা একটি গাছের নিচে বসে সময় কাটান নেতারা, সেখানেই তারা চা ও নাশতা করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হলেও দুই ঘণ্টা পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

তবে মঙ্গলবারের এই কর্মসূচি নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের সব শরিক দলের মধ্যে সন্তুষ্টি নেই। সূত্রমতে, মিত্র দলগুলোর অভিযোগ, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গান্ধী পরিবার পুরো ‘ফোকাস নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে’। মিত্রদের অন্ধকারে রাখার ফলে যে ‘অবিশ্বাসের’ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার জন্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল জোটের নেতাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।