২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা, বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন ও মানবাধিকার বিভাগ এবং ইউনেস্কো মাদানজিত সিং সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা জানান।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিনিয়োগের সুযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আগামী দিনের এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের মূল চালিকাশক্তি হবে দেশের তরুণ প্রজন্ম। তাই তরুণদের এখনই প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে প্রস্তুত হতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, “আজকের তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তবে ভবিষ্যতের সেই বড় দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এখন থেকেই জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতাই ভবিষ্যতের নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি।”

আইন পেশার সাথে জড়িত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “একজন আইনজীবী যখন কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করেন, তখন তার ওপর একটি বড় পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব অর্পিত হয়। আইন পেশায় সামান্য ভুলও অনেক মানুষের জীবন ও অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই আইন শিক্ষার্থীদের শুধু আইন ও বিধিবিধান জানলেই হবে না, তাদের মধ্যে সততা, পেশাগত দায়িত্ববোধ, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।”

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর আইন বিভাগের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এবং ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু সাইদ মোস্তাক আহমেদ।