স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই রোগটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এবং এর প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে।

অনেকের ধারণা, স্তনে নতুন কোনো গোটা বা গুটি তৈরি হলেই তা ক্যানসারের লক্ষণ। তবে দ্রুত খারাপ কিছু ধরে নেওয়াটা সঠিক নয়। স্তনে গুটি হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা এবং এর বেশির ভাগই ক্ষতিকর হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশের ক্ষেত্রে স্তনে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে যার ফলে গুটি তৈরি হয়, কিন্তু আদতে তা ক্যানসার নয়। অনেক ক্ষেত্রে এই গুটিগুলো হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত থাকে এবং কখনো কখনো এসবের জন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবুও সতর্কতার খাতিরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণত মনে করা হয় বয়স বাড়লে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এটি আংশিক সত্য, কারণ ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। তবে এর মানে এই নয় যে কম বয়সী নারীরা এই রোগের ঝুঁকিতে নেই। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ স্তন ক্যানসারের রোগী পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিকিৎসক হ্যালি মুর বলেন, “প্রাপ্তবয়স্ক যেকোনো বয়সেই স্তন ক্যানসার হতে পারে। বিশেষ করে পরিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে বা অন্য কোনো ঝুঁকি থাকলে আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।”

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো স্তন ক্যানসার কেবল নারীদেরই হয়। বাস্তবতা হলো, পুরুষদেরও স্তন ক্যানসার হতে পারে, এমনকি কোনো পূর্ব ঝুঁকি না থাকলেও এই সম্ভাবনা থাকে। যদিও মোট স্তন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর মধ্যে পুরুষদের সংখ্যা ১ শতাংশেরও কম, তবুও প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষা করার ফলে পুরুষদের চিকিৎসা নিতে দেরি হয়ে যায়। নারীদের মতোই পুরুষদের যেকোনো বয়সে এই রোগ হতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে এই রোগ শনাক্ত করা হয়।

অনেকে মনে করেন পরিবারে কারও স্তন ক্যানসার না থাকলে তারা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদিও রক্তের সম্পর্কের এক বা একাধিক ব্যক্তির স্তন ক্যানসার থাকলে ঝুঁকি বাড়ে এবং এক ডজনের বেশি নির্দিষ্ট জিন এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে পরিবারে ইতিহাস না থাকলেও যে কারও স্তন ক্যানসার হতে পারে।

সবশেষে, স্তনে গুটি বা শক্ত অংশ তৈরি হওয়া স্তন ক্যানসারের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ হিসেবে পরিচিত। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না। এই বিষয়ে ডা. মুর বলেন, “লক্ষণ হিসেবে কখনো কখনো স্তনে ব্যথা বা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। বগলের নিচের লসিকাগ্রন্থিও ফুলে যেতে পারে। আবার অনেক সময় স্তন ক্যানসারের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।”

লক্ষণহীনতার এই ঝুঁকির কারণেই নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত ৪০ বছর বয়স থেকে নিয়মিত ম্যামোগ্রাম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক