সাধারণত স্তন ক্যানসার নারীদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও পুরুষের ক্ষেত্রেও এই রোগের ঝুঁকি থাকে। তবে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা এক শতাংশের চেয়েও কম। পুরুষের স্তন দৃশ্যমান না হলেও প্রাকৃতিকভাবেই সেখানে কিছু কোষ থাকে। কোনো কারণে এই কোষগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে চাকা বা গোটা তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। সচেতনতার অভাবে অনেক পুরুষই রোগের জটিল পর্যায়ে পৌঁছে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
পুরুষের স্তন ক্যানসারের কারণ ও ঝুঁকি সম্পর্কে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের অনকোলোজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. অরুনাংশু দাস এবং সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জন ডা. রেজা আহমদের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এই রোগের পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন—লিভার সিরোসিস বা লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া, যার ফলে শরীরে নারী হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, বুকে বা বুকের আশেপাশে বারবার রেডিয়েশন (এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই) এবং ফুসফুসের ক্যানসারের রেডিওথেরাপি ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসায় ইস্ট্রোজেন হরমোন গ্রহণ, বংশগত ইতিহাস (রক্তের সম্পর্কের কারও স্তন ক্যানসার থাকা), কারসিনোজেনিক উপাদানের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত ওজন এবং জিনগত রোগ। সাধারণত ষাট থেকে সত্তর বছর বয়সে এই রোগটি বেশি ধরা পড়ে।
রোগের লক্ষণগুলো চিনে নেওয়া জরুরি। স্তনের জায়গায় চাকা বা গোটা হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, নিপল বা স্তনবৃন্তের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া, নিপল থেকে রক্তসহ তরল নির্গত হওয়া এবং বগলে চাকা বা গোটা হওয়া এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, যেমন বয়স। তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। অ্যালকোহল পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং কর্মঠ জীবনযাপন করা প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় হোল গ্রেন, ফলমূল ও শাকসবজির পরিমাণ বাড়িয়ে লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্তন ক্যানসার সময়মতো শনাক্ত হলে নিরাময় সম্ভব। তাই সুস্থ অবস্থাতেও মাঝেমধ্যে স্তন পরীক্ষা করা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।