চলতি মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটিতে তীব্র অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে, সেখানে সংঘাতের ঝুঁকিও বিদ্যমান।

গত আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রস্তুত করা একটি প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ গত সোমবার এই তথ্যের কথা জানিয়েছে।

সিআইএর ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে একটি প্রধান রাজনৈতিক কারণ হিসেবে কাজ করছে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিদের দীর্ঘদিনের একটি বিশেষ সুবিধা। তারা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে থাকেন, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলে আসছে। এই বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের ভেতরে বিদ্যমান বিভাজনকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও আলোকপাত করা হয়েছে যে, ইসরায়েল বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সামরিক বাহিনীতে তাদের দায়িত্ব পালন শেষ করে ফিরে আসা হাজার হাজার সশস্ত্র সেনাকে পুনরায় বেসামরিক জীবনে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি দেশটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া অস্থিরতা বৃদ্ধির পেছনে আরও বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা পরিচালিত সহিংসতা, নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এবং সামরিক খাতে ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধি।

নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সিআইএর প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনাও ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এই নির্বাচনের পর কোনো স্পষ্ট ফলাফল বেরিয়ে না-ও আসতে পারে।

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপের তথ্যানুসারে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা তাঁর বিরোধী জোট—কোনো পক্ষই দেশটির পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬১টি আসন লাভ করতে না-ও পারে।