সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং উন্নত মানের শিক্ষার পরিবেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক ও দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে ক্যাডেট কলেজগুলো। এই বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহের কারণে প্রতিবছর ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর অসংখ্য শিক্ষার্থী সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি প্রধান ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়—লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয় লিখিত পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সফল হতে পারা মানেই একজন শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাডেট কলেজে ভর্তির স্বপ্নের অর্ধেক পথ পাড়ি দেওয়া।
২০২৭ সালের ভর্তি পরীক্ষার জন্য এবার বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর কমিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হতো, এবার তা কমিয়ে ২০০ নম্বরে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন সিলেবাসে মোট ১০০ নম্বর কমানো হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ২০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় ফিরে যাচ্ছে ক্যাডেট কলেজ কর্তৃপক্ষ।
নতুন সিলেবাসের নম্বর বণ্টন অনুযায়ী, ইংরেজি বিষয়ে ৬৫ নম্বর, গণিতে ৭০ নম্বর এবং বাংলা বিষয়ে ৪৫ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়া বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ নম্বর।
তবে নতুন সিলেবাসে নম্বর বণ্টনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলেও, পরীক্ষার সময়সীমা সম্পর্কে ক্যাডেট কলেজ সংক্রান্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে, বাংলায় ৬০ এবং বিজ্ঞান, ইতিহাস, সামাজিক বিজ্ঞান, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সাধারণ জ্ঞান এবং বুদ্ধিমত্তায় ৪০ নম্বর বরাদ্দ ছিল। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে লিখিত অংশের মোট নম্বর ছিল ৩০০। ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই পরীক্ষা ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে নেওয়া হতো।
*সিলেবাস ও নম্বর বণ্টন দেখুন এখানে