৫২টি পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। সমসাময়িক সময়ে আর কোনো ধারাবাহিক সম্ভবত এতটা ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে পারেনি। সেই সাফল্যের রেশ এখনো কাটেনি, আর এরই মধ্যে নতুন একটি ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরেছেন পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। তাঁর নতুন এই গল্পের শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘ফিরে আসার গল্প’। মূলত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আবেগ নিয়ে নির্মিত এই ধারাবাহিকটি আজ থেকে চ্যানেল আই এবং সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হতে যাচ্ছে।

এর আগে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সব বয়সী মানুষের কাছেই নাটকটি ছিল অত্যন্ত পছন্দের। এর কাহিনী দর্শকদের যেমন কাঁদিয়েছে, তেমনি ভাবিয়েছে এবং আনন্দ দিয়েছে। গল্পের বুনন, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলী—সব মিলিয়ে পরিচালক ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন। অনেক দর্শক এমন মন্তব্য করেছিলেন যে, পারিবারিক গল্পের নাটকের সেই সোনালি সময়টি যেন আবারও ফিরে এসেছে। ইউটিউবে নাটকটির কোটি কোটি ভিউ হয়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর মাস চারেক আগে একটি উদ্যাপন অনুষ্ঠানেই ‘ফিরে আসার গল্প’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজ। সেই ঘোষণার পর থেকেই নতুন এই ধারাবাহিকটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়।

‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, দীপা খন্দকার, নাদের চৌধুরী এবং মনিরা মিঠুসহ বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আলোচনায় ছিলেন। তবে নতুন এই ধারাবাহিকে তাঁদের সবাইকে দেখা যাচ্ছে না। যদিও দীপা খন্দকার, খায়রুল বাসার ও মনিরা মিঠুসহ কয়েকজন আগের ধারাবাহিক থেকেই যুক্ত আছেন। উল্লেখ্য, এই ধারাবাহিকটি দিয়ে সুমাইয়া শিমুর অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার কথা ছিল এবং তিনি একদিন শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চোখে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি কাজটি করতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে গল্পে যুক্ত হন দীপা খন্দকার এবং দীপার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোজী সিদ্দিকী। তবে ‘ফিরে আসার গল্প’ নাটকের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা যাচ্ছে জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিমকে। তাঁদের সঙ্গে আছেন তরুণ প্রজন্মের তানজিম সাইয়ারা তটিনী এবং খায়রুল বাসার। এছাড়া অভিনয় করেছেন এজাজুল ইসলাম, ফয়জুল ইয়ামিন, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ।

স্যাটেলাইট টেলিভিশনের যুগের শুরুর আগেই এক ঘণ্টার একটি নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও জাহিদ হাসান। পরবর্তীতে এটিএন বাংলার ‘লাল নীল বেগুনি’ ধারাবাহিকে তাঁরা প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন, যার পরিচালক ছিলেন জাহিদ হাসান। এরপর ২০১৩ সালে এসএ টিভির ‘সাঙরিলা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন এই দুই তারকা, যার পরিচালক ছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম। এরপর দীর্ঘ বিরতি। প্রায় ১৩ বছর পর আবারও একই নাটকে অভিনয় করছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই দুই তারকা। এই পুনর্মিলন তাঁরা নিজেও বেশ উপভোগ করছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁদের মাঝে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ, হাসি-ঠাট্টা ও আড্ডার পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।

‘ফিরে আসার গল্প’ মূলত সম্পর্কের এক অনন্য আখ্যান। ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর মতো এখানেও সম্পর্কের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের কাহিনী, চরিত্র এবং গল্পের মোড় আগের নাটকের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। নির্মাতা জানিয়েছেন, দর্শককে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধরে রাখার মতো করেই গল্পটি সাজানো হয়েছে। তবে গল্পের টানাপোড়েন কিংবা কাহিনীটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না পরিচালক।

‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর বিশাল সাফল্য নতুন নাটকের ক্ষেত্রে কোনো মানসিক চাপ তৈরি করেছে কি না—তা জানতে চাওয়া হলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, “নাটকের কাজ করার সময় চাপ কিংবা অনুপ্রেরণা কিছুই আমার মাথায় কাজ করেনি। আমার বিশ্বাস থেকে কাজ করেছি। মন থেকে কাজের ব্যাপারে সৎ থাকি। মৌলিক একটা গল্প, আমাদের সবার চিরচেনা গল্প—আমার ভাবনায় উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।”

অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, “আমার সৌভাগ্য যে এখনো সিনিয়র–জুনিয়র সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। আসলে ভালো কাজের জন্য টিমওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যখন নিজেদের জায়গা থেকে আন্তরিকভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন, তখন কাজটাও নিশ্চয়ই ভালো হবে। এই নাটকের টিমওয়ার্কটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে।”

নিজের চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু না বললেও নাটকটি নিয়ে শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, “জাহিদের সঙ্গে আবার একসঙ্গে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে। অনেক বছর পর একই ফ্রেমে দাঁড়ানোটা আমাদের দুজনের জন্যই আনন্দের। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করছি, তাঁদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও আগ্রহ ভালো লাগছে। সব মিলিয়ে ফিরে আসার গল্প নিয়ে আমি আশাবাদী, এটুকু বলতে পারি।”

পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ আরও জানান, প্রথম লটে ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের ১০টি পর্বের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ঢাকার উত্তরায় শুরু হয়েছে দ্বিতীয় লটের শুটিং। এই লটে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৮টি পর্বের শুটিং শেষ হবে। সব মিলিয়ে মোট ৫২টি পর্বে শেষ হবে ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকটি।