সাভারের আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং সিল জাল করে মাদ্রাসার একটি প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদনের চেষ্টার অভিযোগে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) রাতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের একজন হলেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহা. নিয়ামতুল্লাহ (৫০), তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার কমলাকান্তপুর এলাকার মৃত কাশেম উদ্দিনের ছেলে। অন্য একজন হলেন ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আশকোনার সৈয়দ সাকিব হোসেনের ছেলে এবং মাদ্রাসার কথিত উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)। এই জালিয়াতির ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় আশুলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদনপত্র তৈরি করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল এবং রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করা হয় এবং সেটিকে মূল বা খাঁটি দলিল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে এই জাল আবেদন ও কমিটির তালিকাটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই স্বাক্ষরটি জাল। এরপর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, আশুলিয়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহাঃ নিয়ামতুল্লাহ ও কথিত উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদকে হেফাজতে নেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন।
এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন মাদ্রাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার গাজী লিটন ও বিপ্লব।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় ৫ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”