সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীমান্ত দিয়ে এক গৃহবধূকে ভারতে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তাঁর স্বামীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে জাফলংয়ের একটি রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে ওই ২৬ বছর বয়সী গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আওলাতলী গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে গৃহবধূর স্বামী আশিকুর রহমান, নিশ্চাম গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে জহিরুল ইসলাম, পালগাঁও গ্রামের মোনছের আলীর ছেলে কাওছার এবং গোবুদিয়া গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে সাগর মিয়া।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, গৃহবধূকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা করে তাঁর স্বামী ও সহযোগীরা জাফলংয়ের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। আশিকুর রহমান তাঁর সঙ্গে আরও তিন বন্ধুকে নিয়ে সেখানে আসেন। জাফলংয়ে পৌঁছানোর পর তাঁরা ওই গৃহবধূকে ভারতে পাচার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু করেন। তবে বিষয়টি বুঝতে পেরে গৃহবধূ নিজেই পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পুলিশ অভিযান চালায় এবং গৃহবধূকে উদ্ধার করে চারজনকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে সোমবার রাতেই গোয়াইনঘাট থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ওই নারীকে প্রায় চার মাস আগে বিয়ে করেছিলেন আশিকুর রহমান। বিয়ের পর জাফলংয়ে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আরও তিন বন্ধুকে সঙ্গে করে এনেছিলেন আশিকুর। তাঁরা পেশায় গাড়িচালক। এর আগেও তাঁদের জাফলংয়ে আসার তথ্য রয়েছে।”
ওসি ওমর ফারুক আরও বলেন, “জাফলংয়ে আসার পর চারজন মিলে ওই গৃহবধূকে ভারতে পাচার করতে বিভিন্ন জনের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মানব পাচারের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে কয়েকজন আটক হলেও পাচার চক্রের মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। জাফলং একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় এখানকার বিভিন্ন হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলো মানব পাচারকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।