জাতীয় ক্রিকেট লিগের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে সিলেটকে ১ উইকেটে পরাজিত করে নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম। পঞ্চম রাউন্ডের এই লড়াইয়ে চট্টগ্রামের পাশাপাশি জয় পেয়েছে খুলনা ও রংপুর। অন্যদিকে বরিশাল ও ঢাকার মধ্যকার ম্যাচটি অমীমাংসিত হয়ে শেষ হয়েছে, যেখানে শেষ দিনে দুই ব্যাটসম্যানই ৯০-এর ঘরে আউট হয়ে আক্ষেপের মুখে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম ও সিলেটের ম্যাচে শেষ দিনের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। জয়ের লক্ষ্যে শেষ দিনে চট্টগ্রামের প্রয়োজন ছিল ১০১ রান এবং হাতে ছিল ৯ উইকেট। এই সমীকরণে চট্টগ্রামের জয় প্রায় নিশ্চিত মনে হলেও ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা, তা আবারও প্রমাণ করেছেন সিলেটের দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও শাহানুর রহমান।

এক পর্যায়ে চট্টগ্রামকে প্রায় জিততে জিততে হারিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই বোলার। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সফল হতে পারেননি। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ১ উইকেটের জয় ছিনিয়ে নেয় চট্টগ্রাম। ৩ উইকেটে ১৮৭ রান তোলার পর মাত্র ১৩ ওভারের ব্যবধানে ২৩ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে চট্টগ্রাম। নাসুম আহমেদ ৭৬ রানে ৪ উইকেট এবং শাহানুর রহমান ৭৬ রানে ৩ উইকেট নেন। তখন সিলেটের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছিল।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন চট্টগ্রামের ওপেনার সাদিকুর রহমান। চলতি মৌসুমে নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরিটি করেন তিনি। তবে যখন তিনি ঠিক ১০০ রান পূর্ণ করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরছেন, তখন চট্টগ্রামের জয়ের জন্য আরও ১৭ রান প্রয়োজন ছিল।

শেষ মুহূর্তে সিলেটের স্বপ্ন ভেঙে দেন আশরাফুল হাসান রোহান ও সানজিদ মজুমদার। অফ স্পিনার শাহানুরকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন রোহান। এই জয়ের মুহূর্তে চট্টগ্রামের ড্রেসিংরুম থেকে সবাই মাঠে নেমে আসেন। এবারের লিগে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। ২১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের বিপক্ষে খুলনার জয়টি এসেছে বেশ স্বস্তির সাথে। ফলো-অন পড়া ময়মনসিংহ শেষ দিন শুরু করেছিল ৯ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে। তবে মাত্র ৪ রান যোগ করেই তারা অলআউট হয়ে যায়। ফলে খুলনার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৪০ রান। এনামুল হক বিজয়ের অপরাজিত ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় খুলনা। পাঁচ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পঞ্চম রাউন্ড শেষে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে দলটি।

রংপুরের ওপেনার মিম মোসাদ্দেকের ব্যাটে ধারাবাহিকতার গল্প চলছে। প্রথম চার ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি করার পর রাজশাহীর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ১০ রান করেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আর হতাশ করেননি। বগুড়ায় আজ ৬১ রান করে টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত একটি ফিফটি করার অনন্য কীর্তি ধরে রেখেছেন মিম।

শেষ দিনে ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে খেলতে নেমে রাজশাহী ১৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায়, যেখানে ৭৪ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট পড়ে। রংপুরের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৬০ রান। মিমের ফিফটিতে ভর করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর ৬ উইকেটের জয় পায়। চলতি লিগে এটি তাদের প্রথম জয়।

রাজশাহীতে ঢাকা ও বরিশালের ম্যাচে শেষ দিনের নাটকীয়তা ছিল ভিন্ন স্বাদের। জয়ের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য থাকায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়। তবে দুই দলের দুজন ব্যাটসম্যানের জন্য দিনটি ছিল চরম আক্ষেপের।

৮ উইকেটে ২৬৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা বরিশাল ৩১৫ রানেই অলআউট হয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও তা মিস করেন উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। ১৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ১৪৩ বলে ৯৪ রান করেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৬ রান দূরেই থেমে যায় তাঁর ইনিংস।

ঢাকার আশিকুর রহমানের আক্ষেপ আরও বেশি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে মাত্র ১ রান দূরেই আউট হয়ে যান তিনি। বাংলাদেশের ২২তম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯৯ রানে আউট হওয়ার অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। আশিকুরের এই ৯৯ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ২৫১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। এরপর দুই দলই ড্র মেনে নেয়।