চলতি মৌসুমে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে এগোচ্ছে সরকার। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়াইনঘাটের জাফলং এলাকা সংরক্ষিত রেখে বাকি অঞ্চলগুলোতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেটের নিজ বাসভবনে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় পাথর উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ছয়জন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি পৃথক সভার মাধ্যমে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও জানান, আদালতের আদেশ মেনে সংরক্ষিত জাফলং এলাকা অক্ষত রেখে অন্যান্য এলাকায় সনাতন বা হস্তচালিত পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই কমিটি।

তবে আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "যেহেতু মামলা মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন, তাই আমরা অপেক্ষায় আছি এবং আশা করছি আদালত থেকে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। আদালত থেকে যেদিন সিদ্ধান্ত আসবে, পরদিন থেকেই আমরা তা কার্যকরের ব্যবস্থা নেব।"

চলতি মৌসুমে পাথর উত্তোলন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "আগে মামলার বাদীপক্ষ আদালতের সামনে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি। আমরা এবার তা যথাযথভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি। সুতরাং, বাস্তবতার আলোকে আদালত একটি সিদ্ধান্ত দেবেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই মৌসুমেই পাথর উত্তোলন শুরু হবে।"

উল্লেখ্য, যান্ত্রিক উপায়ে পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলং ও এর আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত কয়েক বছর ধরে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ রয়েছে। এর ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তারা যান্ত্রিক পদ্ধতি পরিহার করে কেবল সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আন্দোলন করেছেন এবং স্থানীয়রা সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ে এই দাবি তুলে ধরেছেন।