ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক মর্মান্তিক ঘটনায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কুলসুম আক্তার (৯) নামের ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে থাকাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গেছে, কুলসুম আক্তার নাসিরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সৌদি আরব প্রবাসী মো. জয়নাল মিয়ার কন্যা। সে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কুলসুম যথারীতি স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে সে সময় বাড়িতে ভাত রান্না না হওয়ায় তার মা তাকে মুড়ি ও চা খাইয়ে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ে পাঠান। স্কুলে পৌঁছে সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করে সে। এরপর বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে। এরপর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে সে পড়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনে এবং তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। তবে সেই সময়েই তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর তার মা এবং কয়েকজন শিক্ষক তাকে দ্রুত নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সকাল সোয়া ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, "সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন লোক শিশু কুলসুমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। ইসিজি করেও কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।"

কুলসুমের বড় ভাই রিয়াদ মিয়া শোকাতুর কণ্ঠে বলেন, "আমার বোন সকালে সুস্থ অবস্থায় স্কুলে যায়। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।"

কুলসুমের সহপাঠী ওবায়দুল জানান, স্কুলের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করার পর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় কুলসুমের মাথা ঘুরে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী দেব গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "কুলসুম আমাদের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।"

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া জানান, একজন শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"