ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হওয়ার কারণে রাজিব (২৮) নামের এক যুবককে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর দুই চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতের অন্ধকারে মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এই গুরুতর অপরাধের ঘটনায় পুলিশ ইমাম হোসেন নামে এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
বর্তমানে গুরুতর আহত রাজিব ঢাকার একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফারুক খানের ছেলে। রাজিবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তার দুটি চোখই নষ্ট করে দিয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাজিব তার বাড়ির সামনে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি মাইক্রোবাস সেখানে এসে থামে। রাজিব কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়।
অপহরণের পর তাকে বদরপুর ও লালমোহনসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ভোলা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের নিকটবর্তী একটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এই নির্যাতনের সময়ই রাজিবের দুই চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়।
রাজিবের আর্তচিৎ শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজিবের ভাই মো. রিয়াজ জানান, তার ভাই ওমানে প্রবাসী ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরেছেন। ওমানে থাকাকালীন রাজিব ফেসবুকে এলাকার মাদক ব্যবসা ও মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক পোস্ট দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর থেকেই একটি চক্র তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল এবং তার কাছ থেকে টাকা দাবি করছিল। রিয়াজের দাবি, ওই চক্রই পরিকল্পিতভাবে তার ভাইয়ের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার ভাইকে যারা এভাবে নির্যাতন করে চোখ নষ্ট করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। উক্ত মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।