কেউ কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত, কেউ স্মৃতিবিজড়িত হয়ে আবেগপ্রবণ, আবার কেউ ভাবতেই পারছেন না লিওনেল মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার ফুটবল দল কেমন হবে। মেসির সতীর্থ থেকে শুরু করে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং এমনকি ফিফা সভাপতির বক্তব্যেও ফুটে উঠেছে একই অনুভূতি—মেসি হয়তো মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গৌরবময় গল্পগুলো থাকবে চিরকাল। ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকার বিদায়বেলায় প্রিয়জনরা যা বলছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো।
মেসির একজন সতীর্থ আবেগপ্লুত হয়ে বলেছেন, “আমি শুধু জানি, তোমাকে দেখতে, উপভোগ করতে এবং এতগুলো বছর জাতীয় দলে তোমার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারার জন্য আমি সঠিক শতাব্দীতে জন্মেছি।”
আরেকজন কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, “শুধু ধন্যবাদ। সর্বকালের সেরা, তোমাকে ধন্যবাদ আমাদের এত বেশি আনন্দ দেওয়ার জন্য। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না, কত হাসি তুমি আমাদের উপহার দিয়েছ।”
মেসির অনুপস্থিতির শূন্যতা নিয়ে একজন সতীর্থ জানান, “পরেরবার ক্যাম্পে এসে তোমাকে ১০ নম্বর জার্সি পরে দেখতে না পাওয়াটা কল্পনা করাই কঠিন। এত বছর ধরে তোমাকে ওখানে দেখে এসেছি যে অন্যভাবে ভাবাটাই অসম্ভব মনে হয়।”
অধিনায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্য এক খেলোয়াড় বলেন, “আমরা তোমাকে অনেক মিস করব, অধিনায়ক। আমার কাছে থেকে যাবে মাঠের বাইরে তোমার শেখানো বিষয়গুলো। কখনো হাল ছেড়ো না, বারবার চেষ্টা করে যাও, নীরবে পরিশ্রম করো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো।”
মেসির সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে একজন সতীর্থ বলেন, “মেসির সঙ্গে খেলা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তাকে তার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেতে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।”
আরেকজন সতীর্থ তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “তোমার গল্পের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের বিষয়, এনানো।”
মেসির জাদুকরী ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে একজন বলেন, “ওই ছোট্ট ছেলে, লা পুলগা, সেই এলিয়েন, যে অসম্ভব বলে মনে হওয়া কত কিছু সম্ভব করেছে। তুমি এই মাটির, আমাদের জাতীয় দলের এবং বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি। তুমি আমাদের জাদুতে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছ।”
সবশেষে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নিয়ে বলা হয়, “তুমি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছ বিশ্বকাপজয়ী হিসেবে এবং আমাদের খেলায় যাঁরা সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন, তাঁদের একজন হিসেবে।”