রামেনের আদি জন্মভূমি মূলত চীন হলেও জাপানিদের মাধ্যমেই এই খাবারটি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। তবে একুশ শতকের এই সময়ে কোরিয়ান পপ কালচার (কে-পপ) এবং কে-ড্রামার ব্যাপক প্রসারের ফলে রামেন হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কমফোর্ট ফুড। বিশেষ করে পর্দায় প্রিয় তারকাদের রামেন খাওয়ার দৃশ্য দেখে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই বিশেষ খাবারের প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এক বাটি ধোঁয়া ওঠা স্পাইসি নুডলস আর সাথে এক জোড়া চপস্টিক—বর্তমান প্রজন্মের কাছে আড্ডা কিংবা অবসরের অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই ‘রামেন উন্মাদনা’ এখন বাংলাদেশের ফুড কালচারেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যা কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো, তা এখন দেশি তরুণদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে দারুণভাবে মিশে গেছে।
তবে সমস্যা ছিল দাম নিয়ে। আমদানি করা স্পাইসি কিংবা চিজ রামেনের চড়া মূল্যের কারণে অনেকেই এটি নিয়মিত খেতে পারতেন না। তরুণদের সেই আক্ষেপ দূর করতে মাত্র ৫০ টাকায় কার্বোনারা এবং টু-এক্স স্পাইসির মতো জনপ্রিয় সব ফ্লেভার নিয়ে এসেছে দেশীয় ব্র্যান্ড ‘মিস্টার নুডলস’। পকেটবান্ধব দামে মানসম্মত স্বাদ পাওয়ার ফলে বন্ধুদের আড্ডা কিংবা মধ্যরাতের অবসরে রামেন এখন তরুণদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
গত এক দশকে দেশের তরুণ প্রজন্মের মাঝে রামেনের জনপ্রিয়তা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের আমদানি করা রামেনের কল্যাণে এ দেশের ভোজনরসিকেরা দারুণ সব ফ্লেভারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। বিশেষ করে চিজ, কার্বোনারা, ২এক্স স্পাইসি কিংবা ৩এক্স স্পাইসির মতো ভেরিয়েন্টগুলো তরুণদের কাছে রীতিমতো ক্রেজে পরিণত হয়েছে। এমনকি বন্ধুদের আড্ডায় ‘স্পাইসি রামেন চ্যালেঞ্জ’ হয়ে উঠেছে এক অলিখিত ট্রেন্ড।
একসময় যে স্পাইসি বা চিজ রামেন খেতে পকেট ফাঁকা হয়ে যেত, এখন সেই একই স্বাদ মিলছে স্কুলের টিফিনের টাকায়। মিস্টার নুডলসের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা যেমন কমেছে, তেমনি রামেন এখন আর কেবল উচ্চবিত্তের খাবার হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বন্ধুদের আড্ডা, বিকেলের নাশতা কিংবা গভীর রাতের পড়াশোনা—দেশি দাম আর বিশ্বমানের স্বাদের এই দারুণ সমন্বয়ে তরুণদের কাছে রামেন এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়।