গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই পুলিশ সদস্য এবং তাঁর এক বোনকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক জুবায়ের রশিদ এই আদেশ প্রদান করেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক আহসান উল্লাহ চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের এই আদেশে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছেন প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং রাজার বোন তাসলিমা।

এর আগে গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমান তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন দাখিল করেন। আজকের শুনানির পর আদালত তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি যখন গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার বাইমাইল এলাকায় পৌঁছায়, তখন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেন যে, শৌচকর্মের কথা বলে পিচ্চি রাজা ভ্যান থেকে পালিয়ে যান। তবে পরবর্তীতে তদন্ত চালিয়ে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যদের দেওয়া ওই বক্তব্যের সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার মুক্তকণ্ঠকে জানান, প্রিজন ভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা টাকার বিনিময়ে পিচ্চি রাজাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে ঠিক কত টাকার বিনিময়ে এই কাজ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই পুলিশ সদস্য এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পুলিশ পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশের ভাষ্যমতে, তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।