গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’কে (৩০) প্রায় সাত দিন অতিবাহিত হলেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এই গুরুতর গাফিলতির দায়ে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তবে তদন্তের পর আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে ওই পাঁচজনের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই-এবি) প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার গভীরে যেতে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আসামি ঠিক কোন স্থান থেকে পালিয়েছেন, সে বিষয়েও তারা পরস্পরবিরোধী তথ্য দিচ্ছেন। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, পিচ্চি রাজা মূলত ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।
ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, “সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু তারা ঘটনার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না। এমনকি যে স্থান থেকে আসামি পালানোর কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।”
তদন্ত কমিটির সদস্য ও কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, “প্রিজনভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে কোথাও থামার নিয়ম নেই। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া কেবল নিকটস্থ থানায় থামানো যায়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে গাড়ি থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর বিভাগীয় কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজির করার জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষ করে রাতে তাদের পুনরায় কারাগারে ফেরানোর পথে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে এসআই (এবি) প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব, কনস্টেবল শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় এবং পিচ্চি রাজাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান গণমাধ্যমকে বলেন, “সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।