পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে এক যুবককে মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, আটোয়ারী উপজেলার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০) মোটরসাইকেলে করে বোদা উপজেলা শহর সংলগ্ন প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে এক অপরিচিত নারী তাঁর মোটরসাইকেল থামিয়ে কথা বলার অনুরোধ জানান। ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে কিছু লোক সেখানে জড়েন এবং দাবি করেন যে, ওই নারীর সঙ্গে পরিমলের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে।

অভিযোগের পরপরই পরিমলকে মারধর করা হয়। এরপর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার কথা বলে ওই এলাকার ইউসুফ আলীর বাড়িতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পুনরায় তাঁকে মারধর করা হয়। পরিমল জানান, সেখানেও তিনি ওই নারীকে দেখতে পান। ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর পকেট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, তাঁর মোটরসাইকেলটি জোরপূর্বক আটকে রেখে চারটি ১০০ টাকা মূল্যের নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে বোদা থানায় পাঁচ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পরিমল। মামলার এজাহারে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওরফে রনি (৩০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪), বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।

পুলিশি তৎপরতায় আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজু ইসলাম ছাড়া বাকি চার যুবদল নেতার প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ স্থগিত করেছে বোদা পৌর যুবদল। পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান ও সদস্যসচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিশে অভিযুক্তদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী তিন দিনের মধ্যে সশরীর উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে জানাতে যে, কেন তাঁদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রামাণিকপাড়া-শিমুলতলী মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। বাড়ি ফিরে পরিমল তাঁর পরিবারের সদস্যদের সব কথা জানান। পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি পুনরায় ওই মোড়ে যান এবং সেখানে যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন ও সোহেল রানাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের আটক করেন। তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আটক দুজনকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলকান্ত রায় জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।