পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এক যুবককে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে মারধর, ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দুই যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত চার যুবদল নেতার পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোদা পৌর যুবদল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় অভিযুক্ত দুই নেতাকে আটক করা হয়। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগী পরিমল চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে পাঁচজন নামীয় এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে বোদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন (৩০) এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওই দুই নেতাসহ মোট চারজনের দলীয় পদ স্থগিত করেছে পৌর যুবদল। মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের নেতা মাহাবুব হোসেন আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।

বোদা থানা সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চামেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বোদা বাজারে গিয়েছিলেন। রাত ৯টার দিকে বোদা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রামাণিক পাড়া শিমুলতলী মোড়ে এক নারী কৌশলে তাকে থামান। মুহূর্তের মধ্যেই একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের একটি ভুয়া অভিযোগ এনে তাকে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে তার পকেটে থাকা ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের চারটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পরদিন রোববার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিমল প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে নিয়ে শিমুলতলী মোড়ে যান এবং সেখানে আনোয়ার ও সোহেলকে শনাক্ত করেন। এসময় আনোয়ারের কাছ থেকে পরিমলের স্বাক্ষর করা চারটি স্ট্যাম্প এবং সোহেলের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এরপর উপস্থিত জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।

ভুক্তভোগী পরিমল চন্দ্র বর্মন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে নারী দিয়ে আমাকে এই ফাঁদে ফেলেছে। আসামিরা কেউই আমার পরিচিত ছিলেন না। ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

এই বিষয়ে বোদা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আফসারুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রাথমিক তদন্তে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় ৪ নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। তবে ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাজু ইসলামের নাম মামলায় কীভাবে এলো তা খতিয়ে দেখা দরকার, তিনি সম্ভবত সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।”

বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. অলিয়ার রহমান অলি ও সদস্য সচিব মো. আফছারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ঘটনার সত্যতা এবং গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা।