আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর, শনিবার সরকারি অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সরকারি ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আগে থেকেই ছুটি ঘোষিত ছিল। এরপর ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত। এখন ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিনটিকেও নির্বাহী আদেশে ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির আগে ১৭ অক্টোবর শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটি অফিস খোলা থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখন প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছিলেন যে, এই ছুটির সিদ্ধান্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ছুটির দিনগুলোতে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের ছুটির ক্ষেত্রে জরুরি পরিষেবাগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খাত, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাকসেবা এবং এই সেবাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মী।

একইভাবে হাসপাতাল ও জরুরি সেবা, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মী এবং জরুরি কাজের সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলোও এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে।

এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হবে।