ফিজিতে আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রি-কপ’ সম্মেলন। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বিশেষ বক্তৃতা প্রদান করবেন।
এএফপি জানিয়েছে, তাঁর বক্তব্যে সাইমন ‘চরম তাপে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁদের নবজাতকদের ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধির’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন। ফিজির নাদি শহরে আয়োজিত এই ‘প্রি-কপ’ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ বিষয়ে পরিচালিত নতুন একটি জরিপের তথ্য উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
আজ ৫ অক্টোবর সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ফিজির এই ‘প্রি-কপ’ সম্মেলন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এএফপি উল্লেখ করেছে যে, রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে এ বছর সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই মাস প্রত্যক্ষ করেছে পশ্চিম ইউরোপ, সাহেল অঞ্চল ও মধ্য আমেরিকার প্রায় ৩৩টি দেশ।
জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল তাঁর বক্তব্যে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন, তা নিয়ে এএফপি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাইমন তাঁর বক্তব্যে বলবেন, ‘তাপমাত্রা যত বাড়ছে, গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিও তত বাড়ছে’।
তিনি আরও বলবেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চরম তাপমাত্রার সঙ্গে সময়ের আগে সন্তান জন্ম, মৃত সন্তান প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম এবং মায়ের শারীরিক নানা জটিলতার সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
‘চিত্রটি স্পষ্ট এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা ও সন্তান জন্মদান এখন বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের নতুন এক ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি যত খারাপ হবে, এর পরিণতিও তত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রটি যেন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্ভোগ, বৈষম্য ও অবিচারের আরেকটি গভীর খাদে পরিণত না হয়।’
এদিকে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলো আরও তীব্রতর হচ্ছে এবং আগের তুলনায় তাপমাত্রার রেকর্ড এখন অনেক দ্রুত গতিতে ভাঙছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যানুসারে, পশ্চিম ইউরোপ, সাহেল অঞ্চল ও মধ্য আমেরিকার প্রায় ৩৩টি দেশ এ বছর ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুলাই মাসের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে।
অন্যদিকে, দাতব্য সংস্থা ওয়েলকাম একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করেছে। এই জরিপে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ব্রাজিল ও জিম্বাবুয়ের এক হাজার জন চিকিৎসক ও ধাত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। ওয়েলকামের চেয়ারওম্যান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড এক বিবৃতিতে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মা ও নবজাতকরা ক্রমেই অধিকতর ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
জুলিয়া গিলার্ড বলেন, ‘চরম তাপমাত্রা অদৃশ্য ঘাতক। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ঝুঁকিটা যেন উপেক্ষা করা না হয়। প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ ও সমাধান নেতাদের হাতে রয়েছে—এখন তাঁদের পদক্ষেপ নিতে হবে।’
উক্ত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক ও ধাত্রীই চরম তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া মা অথবা নবজাতকের চিকিৎসা করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন যে, তাঁরা কম ওজনের শিশু জন্ম, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, খাবার গ্রহণে সমস্যা এবং পানিশূন্যতা বা তাপজনিত অসুস্থতার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই সমস্যাগুলোর মূলে রয়েছে চরম তাপমাত্রা।
প্রি-কপ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে সাইমন স্টিয়েল বলবেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা কাল আশায় ভরা একটি সময় হওয়া উচিত। কিন্তু কোটি কোটি মানুষের জন্য এটি এখন উদ্বেগের সময়ে পরিণত হচ্ছে। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাঁদের প্রতিদিনের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে দিচ্ছে।’
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা ফিজি ও দূরবর্তী প্রবালদ্বীপ টুভালুতে আয়োজিত এই প্রি-কপ৩১ সম্মেলনকে একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মুখসারিতে থাকা মানুষের জীবনযাত্রার করুণ অবস্থার দিকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান।
উল্লেখ্য, আগামী মাসে তুরস্কে জাতিসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাওয়া বৃহত্তর বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন-কপ৩১-এর প্রস্তুতিপর্ব হিসেবে এই প্রি-কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।