ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। তবে সম্প্রতি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর ফলে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ এখন অনেকটাই প্রশস্ত ও পরিষ্কার হয়ে গেল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এখন শুধু আমাদের দল থেকে একজন প্রার্থী। সবাই মিলে দলের হয়ে কাজ করব।’
উল্লেখ্য যে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে বিএনপির দুই নেতা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ এবং সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনও ছিলেন। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর থেকেই বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর ওবায়দুল্লাহ মাসুদ জানিয়েছিলেন যে, দলের পক্ষ থেকে একই দিনে তাদের দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশেই তারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম পাঠানো হবে। সেখানে যার নাম চূড়ান্ত করা হবে, তিনিই ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পাবেন এবং অন্যজন দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
এই আসনে বিএনপির পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দের দিন ৮ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।