শরীয়তপুরে ডেঙ্গু সংক্রমণের শিকার হয়ে বরাত মৃধা (১৯) নামে এক তরুণের করুণ মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির সময়ে তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে ৪ দশমিক ৮ গ্রাম/ডেসিলিটারে পৌঁছেছিল বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরাত মৃধার মৃত্যু ঘটে। নিহত যুবক শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের মডেরহাট এলাকার বাসিন্দা রুবেল মৃধার ছেলে।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে বরাতের শরীরে জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিক পর্যায়ে একে সাধারণ জ্বর হিসেবে ধরে নেন এবং স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে তাকে খাওয়ান। তবে রোববার ভোরে হঠাৎ করে তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর তার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করলে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পথেই তার শ্বাসকষ্ট আরও বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বরাতের খালা জানান, “চার-পাঁচ দিন ধরে তার জ্বর ছিল। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয়। রোববার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।”
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুসরাত আসপিয়া এলিজা বলেন, “হাসপাতালে আনার সময় রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৮ গ্রাম/ডেসিলিটার এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। তাকে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুপুর ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”