শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় রান্নাঘরে মজুত করা ককটেল বিস্ফোরে গুরুতর আহত হয়ে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বনশ্রী এলাকার ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোকেয়া বেগম (৪০) নামের ওই নারীর মৃত্যু হয়।

এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুরিয়া চরকান্দি এলাকায় ফারুক ছৈয়ালের বাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফারুক ছৈয়ালের স্ত্রী রোকেয়া বেগম গুরুতর আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় রান্নাঘরে প্রবেশ করেন রোকেয়া বেগম। এ সময় সেখানে মজুত করা ককটেলগুলো একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রান্নাঘরের টিনের চালা উড়ে পাশের বাঁশঝাড়ে পড়ে এবং সামাদ ছৈয়াল ও হাকিম ছৈয়ালের দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা আহত রোকেয়া বেগমকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠান। পরে তাকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ফরাজী হাসপাতাল লিমিটেডের হিসাব ব্যবস্থাপক হিমেল আহমেদ জানান, রোকেয়া বেগম নামের ওই নারী তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মারা যান। পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তার স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, "হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগম ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো কাগজপত্র থানায় পৌঁছায়নি। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।"

এদিকে, বিস্ফোরণের কারণ ও ককটেলগুলো কেন রান্নাঘরে রাখা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাওয়ার কথা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।