রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট ৯০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮০২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা বেশি। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে ৮৩৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের মধ্যে ৬১০ জন পুরুষ এবং ২২৩ জন নারী। এ ছাড়া ৬৮ জন শিশুও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিদিনই রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য আসা যাওয়া চলছে। জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও বমি—এই বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিলেও পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের মুখে উদ্বেগের কথা শোনা যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আবদুল্লাহ বলেন, "জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীকে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।"
আরেক রোগীর স্বজন ইমতিয়াজ জানান, "প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর জ্বর না কমায় পরীক্ষা করানো হয়। ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চলছে।"
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফা নামের এক রোগী জানান, "জ্বরের সঙ্গে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিল। খাওয়ার রুচিও ছিল না। হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এখন চিকিৎসা নিচ্ছি।"
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, "২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে মোট ৯০১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮০২ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।"
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি, তবে শিশুদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। ফলে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।